নীরব আলো

রাত এগারোটা চল্লিশের শেষ ট্রেনটা আর আসে না। লাইন বন্ধ হয়ে গেছে বছর তিনেক হল। তবু হরিপদ রোজ প্ল্যাটফর্মে এসে বসে, লণ্ঠনটা পাশে রাখে, আর তাকিয়ে থাকে অন্ধকারের দিকে।

স্টেশনমাস্টারের ঘরটা এখন তালাবন্ধ। টিকিট কাউন্টারের কাচে মাকড়সার জাল। শুধু নামফলকটা এখনও দাঁড়িয়ে—হলুদ রঙের ওপর কালো অক্ষরে লেখা “পলাশডাঙা”।

অপেক্ষা

গ্রামের লোকে বলে, হরিপদর মাথাটা গেছে। কেউ বলে, ওর ছেলে নাকি এই ট্রেনেই শহরে গিয়েছিল, আর ফেরেনি। হরিপদ কিছু বলে না। সে শুধু জানে, অপেক্ষা করাটাও একরকম কাজ।

অপেক্ষা করাটাও একরকম কাজ—হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো কাজ।

সেদিন রাতে, ঠিক এগারোটা চল্লিশে, দূরে একটা আলো দেখা গেল। হরিপদ উঠে দাঁড়াল। লণ্ঠনটা তুলে নিল। আলোটা কাছে আসছে, খুব ধীরে, প্রায় নিঃশব্দে।

পরদিন সকালে প্ল্যাটফর্মে শুধু লণ্ঠনটা পাওয়া গেল। তখনও জ্বলছিল।

◦

লেখক পরিচিতি

অরিন্দম মিত্র — গল্পকার। মফস্বলের রেলস্টেশন আর হারিয়ে যাওয়া মানুষদের নিয়ে লেখেন।

পাঠকের মতামত ০